Latest News
যশোরের ভবদহ অঞ্চলে মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের মাছের পোনা উন্মুক্ত জলাশয়ে অবমুক্ত না করে চুরি করে খোলা বাজারে বিক্রি ও লুটপাটের প্রতিবাদে মণিরামপুরে বুধবার নাগরিক অধিকার সংরণ ফোরামের উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ও উপজেলা পরিষদ চত্বরে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। উপজেলার ভবদহ অধ্যুষিত হরিদাসকাটি ইউনিয়নের অবহেলিত ও বঞ্চিতরা এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসীর পে সুকৃতি রায় স্বারিত এক স্মারক লিপি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর প্রদান করা হয়। যার অনুলিপি যশোর-৫ মণিরামপুর আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। স্মারক লিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি ভবদহ এলাকায় মৎস্য অবমুক্ত করা হয়েছে। যা এই এলাকার বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। কিন্তু একটি বিশেষ চক্র সুকৌশলে এই এলাকার তাদের ব্যক্তিগত এজেন্ট দিয়ে প্রকল্পের মাছ চুরি করে বিক্রি সহ লুটপাট করিয়েছে। মানববন্ধনকারীরা মাছ চুরি ও লুটপাটের সাথে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
শনিবার স্থানীয় মৎস্য অধিদপ্তর ভবদহ মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে মণিরামপুর উপজেলার হরিদাসকাটি ইউনিয়ণের কুচলিয়া - লেবুগাতী ফসল ও মৎস্য চাষ সমিতির আওতায় ভবদহের বিল বোকড়ে অবমুক্ত করার জন্য ২ হাজার ২শ' ২০ কেজি রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, ওই সমিতির সুচতুর সম্পাদক মাস্টার সুব্রত বিশ্বাস ও তার সহযোগীরা গৃহীত মৎস্য পোনা শনিবার অবমুক্ত না করে স্থানীয় একটি মৎস্য খামারে হাপরে রেখে রবিবার স্থানীয় বিভিন্ন মৎস্য খামার মালিকের কাছে বিক্রি করে। এলাকাবাসী খোলাবাজারে বিক্রিকালে দুই হাড়ি রুই- কাতলার পোনা সহ কুচলিয়া গ্রামের কালাচাঁদ বিশ্বাসের ছেলে পশুপতি বিশ্বাসকে (৩৫) আটক করে পুলিশে দেয়। এ ব্যাপারে সমিতির সভাপতি ভগরতি বিশ্বাস বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় আটক শশুপতি বিশ্বাস ,সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুব্রত বিশ্বাস, সদস্য কৃপা বিশ্বাস ও ভদ্র বিশ্বাসসহ ৪ জনের নামে মামলা করে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিল্লুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে আসামী ও আটক হয়েছে। নতুন করে কোন মামলাদেয়ার বা ব্যবস্থা গ্রহণের কোন অবকাশ নেই।
শনিবার স্থানীয় মৎস্য অধিদপ্তর ভবদহ মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে মণিরামপুর উপজেলার হরিদাসকাটি ইউনিয়ণের কুচলিয়া - লেবুগাতী ফসল ও মৎস্য চাষ সমিতির আওতায় ভবদহের বিল বোকড়ে অবমুক্ত করার জন্য ২ হাজার ২শ' ২০ কেজি রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, ওই সমিতির সুচতুর সম্পাদক মাস্টার সুব্রত বিশ্বাস ও তার সহযোগীরা গৃহীত মৎস্য পোনা শনিবার অবমুক্ত না করে স্থানীয় একটি মৎস্য খামারে হাপরে রেখে রবিবার স্থানীয় বিভিন্ন মৎস্য খামার মালিকের কাছে বিক্রি করে। এলাকাবাসী খোলাবাজারে বিক্রিকালে দুই হাড়ি রুই- কাতলার পোনা সহ কুচলিয়া গ্রামের কালাচাঁদ বিশ্বাসের ছেলে পশুপতি বিশ্বাসকে (৩৫) আটক করে পুলিশে দেয়। এ ব্যাপারে সমিতির সভাপতি ভগরতি বিশ্বাস বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় আটক শশুপতি বিশ্বাস ,সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুব্রত বিশ্বাস, সদস্য কৃপা বিশ্বাস ও ভদ্র বিশ্বাসসহ ৪ জনের নামে মামলা করে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিল্লুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে আসামী ও আটক হয়েছে। নতুন করে কোন মামলাদেয়ার বা ব্যবস্থা গ্রহণের কোন অবকাশ নেই।
মনিরামপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার অযোগ্যতা ও অদতাকে দায়ী করে স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট খান টিপু সুলতান বলেছেন, ল ল টাকার সরকারি অর্থায়নে উপজেলার কুচলিয়া ও নেবুগাতি ইউনিটের বিলবোকড়ে মাছের পোণা অবমুক্ত করা নিয়ে যে হরিলুট হয়েছে তা কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও উল্ল্যেখ করেন, শুধু মৎস কর্মকর্তা নয় ঠিকাদারসহ ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক সবাইকে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। গত ৩০ অক্টোবর উপজেলার ওই ইউনিটের ২ হাজার ২'শ ৭০ কেজি অবমুক্ত করার জন্য সংগৃহীত পোনা মাছ লুটের ঘটনা ঘটে।
এব্যাপারে দৈনিক গ্রামের কাগজসহ...
এব্যাপারে দৈনিক গ্রামের কাগজসহ...
উৎকণ্ঠা কাটিয়ে ১৫ লাখ শিশু আর অভিভাবকদের উৎসাহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হলো অষ্টম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা। পরীৰায় সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পরীৰার নাম জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) আর মাদ্রাসা বোর্ডের পরীৰার নাম জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীৰা। পরীৰায় রেজিট্রেশন করেও হলে অনুপস্থিত ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৪৭২ জন। ১ শিৰকসহ বহিষ্কৃত হয়েছে ৩৬ জন। প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এই পরীৰায় উৎসাহের কমতি ছিল না। কেন্দ্রজুড়ে ছিল মায়েদের ভিড়। পরীৰা শেষে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিব্যক্তি ছিল, 'প্রশ্ন অনেক সহজ হয়েছে। পরীৰা ভাল হয়েছে। তবে একদিনে দুটি করে পরীৰা হওয়ায় তারা ৰুব্ধ। কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে ৰোভের সঙ্গে বললেন, একদিনে দুটি পরীক্ষা কেন?
রাজধানীর শিশু আর অভিভাবকরা জানালেন, সকালের জানযট আর জানবাহন সঙ্কটের প্রবল সমস্যার কথা। তবে শনত্মিপূর্ণভাবে পরীৰার শুরম্নতে খুশি শিৰামন্ত্রী এবং শিৰামন্ত্রণালয় ও শিৰা অধিদফতসহ সংশিস্নষ্ট প্রতিষ্ঠানের সকল শিৰক-কর্মকর্তা। ব্যাপক প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় শুরু হয়েছে অষ্টম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা বা জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীৰা। একই সঙ্গে শুরু হচ্ছে জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীৰা। ৮টি সাধারণ ও একটি মাদ্রাসা শিৰা বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৮০৪টি কেন্দ্রে পরীৰার্থী ছিল ১৫ লাখ ৫ হাজার ৩৯১ পরীৰার্থী। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের সংখ্যা প্রায় এক লাখ বেশি। ৮টি সাধারণ শিৰাবোর্ডের পরীৰার্থী ১২ লাখ ৩৩ হাজার ৩৯১ জন এবং মাদ্রাসা বোর্ডে ২ লাখ ৭২ হাজার। সাধারণ বোর্ডে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যনত্ম অনুষ্ঠিত হয় বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র পরীৰা। তিন ঘণ্টাব্যাপী পরীৰার পর এক ঘণ্টা বিরতি শেষে দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হয় বাংলা (আবশ্যিক) দ্বিতীয় পত্র পরীৰা। মাদ্রাসা বোর্ডের ছিল একটি পরীৰা। এ বোর্ডের বাংলা সাহিত্য পরীৰা অনুষ্ঠিত হয়েছে সকাল ১০ টা থেকে ১ টা পর্যনত্ম। পরীৰা শেষে রাতে শিৰা মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রম্নল থেকে জানা গেছে, পরীৰায় অনুপস্থিত ছিল ১ লাখ। পরীৰায় ৮টি সাধারণ শিৰা বোর্ডের জেএসসি পরীৰায় ১৮ হাজার ১৮৬টি প্রতিষ্ঠানের ১২ লাখ ৩৩ হাজার ৩৯১ পরীৰার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৪৭২জন। ঢাকা শিৰা বোর্ডে ৩ লাখ ৭৬ হাজার ২৩৪ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ২১ হাজার ৩৫৩ জন, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৮৯ জন অনুপস্থিত ছিল ১২ হাজার ৮০ জন, কুমিলস্না বোর্ডে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪৮ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ৮ হাজার ৩৯৮ জন, এই বোর্ডে বহিষ্কৃত হয়েছে ২১ জন। যশোর বোর্ডে ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৯৫ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ১২ হাজার ৬৩৯ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ১ লাখ ৫ হাজার ১৬০ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ৩ হাজার ৯০৩ জন, এই বোর্ডে ১ শিৰক বহিষ্কৃত হয়েছেন। বরিশাল বোর্ডে ৭৫ হাজার ৭১০ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ৫ হাজার ৫৭১ জন, সিলেট বোর্ডে ৬৯ হাজার ৬২১ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ২ হাজার ৭২৫ জন এবং দিনাজপুর বোর্ডে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৩৪ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ৩৮৪৯ জন। অন্যদিকে মাদ্রাসা বোর্ডের জেডিসি পরীৰায় ২ লাখ ৭২ হাজারের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ৩০ হাজার ৯৫৪ জন । এ বোর্ডে বহিষ্কৃত হয়েছে ১৪ জন। শিক্ষামন্ত্রী নুরম্নল ইসলাম নাহিদ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মতিঝিল সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়, মতিঝিল সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ই আলীয়া পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় শিক্ষাসচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, যুগ্মসচিব খন্দকার রাকিবুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নোমান উর রশিদ, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফাহিমা খাতুনসহ সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ছিলেন। বিকেলে শিৰামন্ত্রী সিলেটের বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। রাজধানীরতে কেন্দ্র পরিদর্শনকালে শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষার সময়সূচী নিয়ে অভিভাবকদের কিছুটা ৰোভের মুখে পড়েন। কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে শিৰামন্ত্রীর কাছে অভিভাবকরা ৰোভের সঙ্গে বলেন, একদিনে দুটি পরীৰা কেন নিলেন?
শিৰামন্ত্রী বলেন, প্রতি পরীক্ষার মাঝে বিরতির সময় না কমালে, শিক্ষার্থীরা ক্লাস কম পাবে। সব দিক লক্ষ্য করে সংশিস্নষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ সময়সূচী নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের কোন ক্ষতি হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। মন্ত্রী বলেন, এ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শিক্ষার মান বাড়বে। শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া কমে যাবে এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে। পরীৰাকে কেন্দ্র করে শিশুদের উৎসাহের কথা উলেস্নখ করে শিৰামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে কোন প্রকার অসন্তুষ্টি নেই। হলে তারা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন পরীৰা কেন্দ্রে শিৰার্থী অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল বিকালে দুটি পরীৰা নিয়ে কিছুটা ৰোভ থাকলেও প্রথম দিনের পরীৰা দিয়ে পরীৰার ভয় ও উৎকণ্ঠা অনেক কেটে গেছে। রাজধানী থেকে শুরম্ন করে গ্রাম পর্যনত্ম স্কুলকে কেন্দ্র করে ছিল একই আমেজ। দুপুরে গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলে গিয়ে দেখা গেল অভিভাবকরা বসে আছেন সনত্মানের পরীৰার উৎকণ্ঠা নিয়ে। পরীৰা কেমন হয়েছে? প্রশ্ন করতেই অভিভাবকরা বললেন, খুব ভাল হয়েছে। কোন সমস্যা হয়নি। তবে বাংলা ও ইংরেজীর চারটি পরীৰা চার দিনে নিলে আরও ভাল হতো। মতিঝিল সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়, ধানমণ্ডি সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়, তেজগাঁও সরকারী বালিকা বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পরীৰা কেন্দ্রে গেলেও শিৰার্থী অভিভাবকদের একই অভিব্যক্তি পাওয়া গেল। সময়সূচী নিয়ে কিছুটা অসন্তুষ্টি থাকলেও সহজ প্রশ্ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীৰা আয়োজনে খুশি সকলেই। সারাদেশে জনকণ্ঠের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, পরীৰা শানত্মিপূর্ণ পরিবেশেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে প্রতিটি কেন্দ্রেই অনেক শিৰাথর্ী অনুপস্থিত ছিল।
আজ শুক্রবার এবং আগামীকাল শনিবার সাধারণ বোর্ডে কোন পরীৰা নেই। রবিবার সাধারণ বোর্ডের অধীনে সকালে ইংরেজী (আবশ্যিক)-প্রথম পত্র, বিকালে ইংরেজী (আবশ্যিক) দ্বিতীয় পত্র পরীৰা অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে আগামীকাল শনিবার মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে ইংরেজী পরীৰা অনুষ্ঠিত হবে।
রাজধানীর শিশু আর অভিভাবকরা জানালেন, সকালের জানযট আর জানবাহন সঙ্কটের প্রবল সমস্যার কথা। তবে শনত্মিপূর্ণভাবে পরীৰার শুরম্নতে খুশি শিৰামন্ত্রী এবং শিৰামন্ত্রণালয় ও শিৰা অধিদফতসহ সংশিস্নষ্ট প্রতিষ্ঠানের সকল শিৰক-কর্মকর্তা। ব্যাপক প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় শুরু হয়েছে অষ্টম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা বা জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীৰা। একই সঙ্গে শুরু হচ্ছে জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীৰা। ৮টি সাধারণ ও একটি মাদ্রাসা শিৰা বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৮০৪টি কেন্দ্রে পরীৰার্থী ছিল ১৫ লাখ ৫ হাজার ৩৯১ পরীৰার্থী। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের সংখ্যা প্রায় এক লাখ বেশি। ৮টি সাধারণ শিৰাবোর্ডের পরীৰার্থী ১২ লাখ ৩৩ হাজার ৩৯১ জন এবং মাদ্রাসা বোর্ডে ২ লাখ ৭২ হাজার। সাধারণ বোর্ডে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যনত্ম অনুষ্ঠিত হয় বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র পরীৰা। তিন ঘণ্টাব্যাপী পরীৰার পর এক ঘণ্টা বিরতি শেষে দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হয় বাংলা (আবশ্যিক) দ্বিতীয় পত্র পরীৰা। মাদ্রাসা বোর্ডের ছিল একটি পরীৰা। এ বোর্ডের বাংলা সাহিত্য পরীৰা অনুষ্ঠিত হয়েছে সকাল ১০ টা থেকে ১ টা পর্যনত্ম। পরীৰা শেষে রাতে শিৰা মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রম্নল থেকে জানা গেছে, পরীৰায় অনুপস্থিত ছিল ১ লাখ। পরীৰায় ৮টি সাধারণ শিৰা বোর্ডের জেএসসি পরীৰায় ১৮ হাজার ১৮৬টি প্রতিষ্ঠানের ১২ লাখ ৩৩ হাজার ৩৯১ পরীৰার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৪৭২জন। ঢাকা শিৰা বোর্ডে ৩ লাখ ৭৬ হাজার ২৩৪ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ২১ হাজার ৩৫৩ জন, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৮৯ জন অনুপস্থিত ছিল ১২ হাজার ৮০ জন, কুমিলস্না বোর্ডে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪৮ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ৮ হাজার ৩৯৮ জন, এই বোর্ডে বহিষ্কৃত হয়েছে ২১ জন। যশোর বোর্ডে ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৯৫ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ১২ হাজার ৬৩৯ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ১ লাখ ৫ হাজার ১৬০ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ৩ হাজার ৯০৩ জন, এই বোর্ডে ১ শিৰক বহিষ্কৃত হয়েছেন। বরিশাল বোর্ডে ৭৫ হাজার ৭১০ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ৫ হাজার ৫৭১ জন, সিলেট বোর্ডে ৬৯ হাজার ৬২১ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ২ হাজার ৭২৫ জন এবং দিনাজপুর বোর্ডে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৩৪ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ৩৮৪৯ জন। অন্যদিকে মাদ্রাসা বোর্ডের জেডিসি পরীৰায় ২ লাখ ৭২ হাজারের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ৩০ হাজার ৯৫৪ জন । এ বোর্ডে বহিষ্কৃত হয়েছে ১৪ জন। শিক্ষামন্ত্রী নুরম্নল ইসলাম নাহিদ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মতিঝিল সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়, মতিঝিল সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ই আলীয়া পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় শিক্ষাসচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, যুগ্মসচিব খন্দকার রাকিবুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নোমান উর রশিদ, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফাহিমা খাতুনসহ সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ছিলেন। বিকেলে শিৰামন্ত্রী সিলেটের বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। রাজধানীরতে কেন্দ্র পরিদর্শনকালে শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষার সময়সূচী নিয়ে অভিভাবকদের কিছুটা ৰোভের মুখে পড়েন। কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে শিৰামন্ত্রীর কাছে অভিভাবকরা ৰোভের সঙ্গে বলেন, একদিনে দুটি পরীৰা কেন নিলেন?
শিৰামন্ত্রী বলেন, প্রতি পরীক্ষার মাঝে বিরতির সময় না কমালে, শিক্ষার্থীরা ক্লাস কম পাবে। সব দিক লক্ষ্য করে সংশিস্নষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ সময়সূচী নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের কোন ক্ষতি হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। মন্ত্রী বলেন, এ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শিক্ষার মান বাড়বে। শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া কমে যাবে এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে। পরীৰাকে কেন্দ্র করে শিশুদের উৎসাহের কথা উলেস্নখ করে শিৰামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে কোন প্রকার অসন্তুষ্টি নেই। হলে তারা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন পরীৰা কেন্দ্রে শিৰার্থী অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল বিকালে দুটি পরীৰা নিয়ে কিছুটা ৰোভ থাকলেও প্রথম দিনের পরীৰা দিয়ে পরীৰার ভয় ও উৎকণ্ঠা অনেক কেটে গেছে। রাজধানী থেকে শুরম্ন করে গ্রাম পর্যনত্ম স্কুলকে কেন্দ্র করে ছিল একই আমেজ। দুপুরে গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলে গিয়ে দেখা গেল অভিভাবকরা বসে আছেন সনত্মানের পরীৰার উৎকণ্ঠা নিয়ে। পরীৰা কেমন হয়েছে? প্রশ্ন করতেই অভিভাবকরা বললেন, খুব ভাল হয়েছে। কোন সমস্যা হয়নি। তবে বাংলা ও ইংরেজীর চারটি পরীৰা চার দিনে নিলে আরও ভাল হতো। মতিঝিল সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়, ধানমণ্ডি সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়, তেজগাঁও সরকারী বালিকা বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পরীৰা কেন্দ্রে গেলেও শিৰার্থী অভিভাবকদের একই অভিব্যক্তি পাওয়া গেল। সময়সূচী নিয়ে কিছুটা অসন্তুষ্টি থাকলেও সহজ প্রশ্ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীৰা আয়োজনে খুশি সকলেই। সারাদেশে জনকণ্ঠের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, পরীৰা শানত্মিপূর্ণ পরিবেশেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে প্রতিটি কেন্দ্রেই অনেক শিৰাথর্ী অনুপস্থিত ছিল।
আজ শুক্রবার এবং আগামীকাল শনিবার সাধারণ বোর্ডে কোন পরীৰা নেই। রবিবার সাধারণ বোর্ডের অধীনে সকালে ইংরেজী (আবশ্যিক)-প্রথম পত্র, বিকালে ইংরেজী (আবশ্যিক) দ্বিতীয় পত্র পরীৰা অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে আগামীকাল শনিবার মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে ইংরেজী পরীৰা অনুষ্ঠিত হবে।
যশোর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনই আওয়ামী লীগের। এদের মধ্যে ৩ জনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। অপর তিন এমপির বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না থাকলেও এলাকায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দাপট নিয়ন্ত্রণ করতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। জেলায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে কোন্দল চরম আকার ধারণ করছে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ সমন্বয়ে গঠিত 'ভাইয়া গ্রুপ' একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করছে। জেলা থেকে উপজেলা পর্যন্ত সকল প্রশাসনে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য, টিআর, কাবিখা ও কাবিটা এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হওয়ায় দলীয় নেতাকমর্ী এবং এক উপজেলার চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ভাইয়া গ্রুপ ভাগাভাগি করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সমগ্র যশোর জেলায় বিএনপি'র এক এমপির কথার বাইরে প্রশাসনে কাজ হতো না। তাকে ভাগ দিয়ে দলীয় ক্যাডাররা টেন্ডার, দখল, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য, টিআর, কাবিখা ও কাবিটা নিয়ন্ত্রণ করতো বলে জানা যায়। বর্তমানেও সেই চিত্রের পরিবর্তন হয়নি।
জানা যায়, যশোরে আওয়ামী লীগে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সূত্রপাত ২০০৫ সালে। এ দ্বন্দ্ব কখনো অগি্নস্ফুলিঙ্গের মত ছড়িয়েছে আবার কখনো ছাইচাপা আগুনের মত সুপ্ত থেকেছে, কিন্তু নিভেনি। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এ পর্যন্ত ৭ জন দলীয় কমর্ী খুন হয়েছে। তারপরও দলের মধ্যে হিংসার রাজনীতি থামছে না। গত ১৩ মার্চ ৭ বছর পর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন শেষে কমিটি গঠনকালে ভোট গ্রহণের সময় সহিংস ঘটনা ঘটে। প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয় ছাত্রলীগ নেতা রিপন হোসেন। দলের আভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিভিন্ন সময় অকালে যে সকল নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন তারা হচ্ছেন মকিমবাবু, বিপস্নব, শহীদ, বাবু, রবি ও ডাকু।
এলাকার এক এমপি নিজ নির্বাচনী এলাকায় একটি জুট মিল স্থাপন করেছেন। সেখানে এলাকার এক হাজার মহিলার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে প্রশংসা পেয়েছেন। চোরাচালান দমনে তিনি ভূমিকা রাখছেন বলে জানা যায়। তবে এখানেও দলে কোন্দল রয়েছে। ফলে মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের সবসময় নিয়ন্ত্রণ করা এমপির পক্ষে সম্ভব হয় না বলে জানা যায়।
আরেক এমপি মাসের অধিকাংশ সময় ঢাকায় থাকেন। তার অনুপস্থিতিতে এক উপজেলা চেয়ারম্যান এলাকায় দাপট দেখান। থানা ও প্রশাসন তার নির্দেশমত চলে। দলীয় নেতাকর্মীরাও দাপট দেখায়। এমনকি থানাতে হয়রানিমূলক মামলাও দায়ের করা হয়। এমপি মাঝে মধ্যে আসেন এবং রুটিন ওয়ার্ক সেরে ঢাকায় ফিরে যান।
আরেক এমপির সাথে দলের জেলা সাধারণ সম্পাদকের দা-কুমড়া সম্পর্কের কথা জেলায় ওপেন সিক্রেট। এ ডাকসাইটে এমপি সিভিল সার্জন অফিসে লোক নিয়োগকালে সুইপার পদে হরিজন সমপ্রদায়ের কয়েকজনকে নিয়োগদানের সুপারিশ করেছিলেন। তাদের চাকরি না হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। দলীয় কয়েকজন নেতা সিভিল সার্জন অফিসে গিয়ে তান্ডব শুরু করেন। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অপর এক এমপির সাথে তার নির্বাচনী এলাকার এক প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পর্ক ক্রমেই সংঘাতময় হয়ে উঠছে। সেখানকার রাজনীতি এখন উত্তপ্ত। দুই গ্রুপের মধ্যে কয়েকটি ছোটখাট সংঘর্ষও হয়েছে।
মহাজোট নতুন করে ক্ষমতায় আসার পর এ নির্বাচনী এলাকায় তেমন উন্নয়ন হয়নি। টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রভৃতি উন্নয়ন প্রকল্পের কমিটির চেয়ারম্যান হচ্ছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বরাদ্দকৃত চাল গম হরিলুট হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায় । এখানে ভাইয়া গ্রুপের দাপটে এমপি গ্রুপ কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। অপর এক এমপির বাড়ি করা নিয়ে নানা কানাঘুষা শোনা যায়। যশোরের আরেক এমপিও মাসের অধিকাংশ সময় এলাকায় থাকেন না। তার অনুপস্থিতিতে দলীয় নেতাকর্মীরা প্রশাসনের উপর দাপট দেখায়। স্কুল-কলেজের পরিচালনা কমিটির পদগুলোতে দলীয় লোক বসানো হয়েছে। তারা নিয়োগ বাণিজ্য করছে বলে অভিযোগ উঠছে। কিন্তু এসবের প্রতি এমপি নজর দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও টিআর, কাবিখা প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে না হওয়ার অভিযোগ তো রয়েছেই।
অভিযোগ প্রসঙ্গে একজন এমপি বলেন, তার এলাকায় স্কুল-কলেজগুলোতে নির্বাচিত পরিচালনা কমিটি রয়েছে। তারা কে কি করছেন তা বলতে পারব না। তিনি বলেন, মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের পর তাদের কাছ থেকে ডোনেশন নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজে সে টাকা ব্যয় করা দোষের কিছু না।
যশোরের জেলা প্রশাসক মোঃ নুরুল আমিন জানান, জেলার এমপিগণ প্রশাসনের উপর কোন হস্তক্ষেপ করেন না। তিনি স্বাধীনভাবে প্রশাসন চালাচ্ছেন। তার কাছে কোন এমপি তদবির করতেও আসেন না বলে ডিসি জানান।
পুলিশ সুপার মোঃ কামরুল এহসান জানান, তিনি নতুন এসেছেন। এ পর্যন্ত কোন এমপি প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ করেননি বলে তিনি জানান। এলজিইডি'র নির্বাহী প্রকৌশলী খলিফা মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, তার দফতরে এমপিগণ কোন টেন্ডারবাজির সাথে যুক্ত নন। তিনি স্বাধীনভাবে প্রশাসনিক কাজ করতে পারছেন। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. তরুণ কুমার সিকদার জানান, তার অফিসে লোক নিয়োগের সময় কোন কোন এমপি সুপারিশ করে থাকেন। তিনি বলেন, সুপারিশ করা দোষের কিছু নয়। তবে তাদের উপর চাপ নেই বলে জানান। অবশ্য সম্প্রতি সংঘটিত একটি অপ্রীতিকর ঘটনার কথা তিনি স্বীকার করেছেন।
জানা যায়, যশোরে আওয়ামী লীগে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সূত্রপাত ২০০৫ সালে। এ দ্বন্দ্ব কখনো অগি্নস্ফুলিঙ্গের মত ছড়িয়েছে আবার কখনো ছাইচাপা আগুনের মত সুপ্ত থেকেছে, কিন্তু নিভেনি। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এ পর্যন্ত ৭ জন দলীয় কমর্ী খুন হয়েছে। তারপরও দলের মধ্যে হিংসার রাজনীতি থামছে না। গত ১৩ মার্চ ৭ বছর পর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন শেষে কমিটি গঠনকালে ভোট গ্রহণের সময় সহিংস ঘটনা ঘটে। প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয় ছাত্রলীগ নেতা রিপন হোসেন। দলের আভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিভিন্ন সময় অকালে যে সকল নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন তারা হচ্ছেন মকিমবাবু, বিপস্নব, শহীদ, বাবু, রবি ও ডাকু।
এলাকার এক এমপি নিজ নির্বাচনী এলাকায় একটি জুট মিল স্থাপন করেছেন। সেখানে এলাকার এক হাজার মহিলার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে প্রশংসা পেয়েছেন। চোরাচালান দমনে তিনি ভূমিকা রাখছেন বলে জানা যায়। তবে এখানেও দলে কোন্দল রয়েছে। ফলে মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের সবসময় নিয়ন্ত্রণ করা এমপির পক্ষে সম্ভব হয় না বলে জানা যায়।
আরেক এমপি মাসের অধিকাংশ সময় ঢাকায় থাকেন। তার অনুপস্থিতিতে এক উপজেলা চেয়ারম্যান এলাকায় দাপট দেখান। থানা ও প্রশাসন তার নির্দেশমত চলে। দলীয় নেতাকর্মীরাও দাপট দেখায়। এমনকি থানাতে হয়রানিমূলক মামলাও দায়ের করা হয়। এমপি মাঝে মধ্যে আসেন এবং রুটিন ওয়ার্ক সেরে ঢাকায় ফিরে যান।
আরেক এমপির সাথে দলের জেলা সাধারণ সম্পাদকের দা-কুমড়া সম্পর্কের কথা জেলায় ওপেন সিক্রেট। এ ডাকসাইটে এমপি সিভিল সার্জন অফিসে লোক নিয়োগকালে সুইপার পদে হরিজন সমপ্রদায়ের কয়েকজনকে নিয়োগদানের সুপারিশ করেছিলেন। তাদের চাকরি না হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। দলীয় কয়েকজন নেতা সিভিল সার্জন অফিসে গিয়ে তান্ডব শুরু করেন। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অপর এক এমপির সাথে তার নির্বাচনী এলাকার এক প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পর্ক ক্রমেই সংঘাতময় হয়ে উঠছে। সেখানকার রাজনীতি এখন উত্তপ্ত। দুই গ্রুপের মধ্যে কয়েকটি ছোটখাট সংঘর্ষও হয়েছে।
মহাজোট নতুন করে ক্ষমতায় আসার পর এ নির্বাচনী এলাকায় তেমন উন্নয়ন হয়নি। টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রভৃতি উন্নয়ন প্রকল্পের কমিটির চেয়ারম্যান হচ্ছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বরাদ্দকৃত চাল গম হরিলুট হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায় । এখানে ভাইয়া গ্রুপের দাপটে এমপি গ্রুপ কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। অপর এক এমপির বাড়ি করা নিয়ে নানা কানাঘুষা শোনা যায়। যশোরের আরেক এমপিও মাসের অধিকাংশ সময় এলাকায় থাকেন না। তার অনুপস্থিতিতে দলীয় নেতাকর্মীরা প্রশাসনের উপর দাপট দেখায়। স্কুল-কলেজের পরিচালনা কমিটির পদগুলোতে দলীয় লোক বসানো হয়েছে। তারা নিয়োগ বাণিজ্য করছে বলে অভিযোগ উঠছে। কিন্তু এসবের প্রতি এমপি নজর দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও টিআর, কাবিখা প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে না হওয়ার অভিযোগ তো রয়েছেই।
অভিযোগ প্রসঙ্গে একজন এমপি বলেন, তার এলাকায় স্কুল-কলেজগুলোতে নির্বাচিত পরিচালনা কমিটি রয়েছে। তারা কে কি করছেন তা বলতে পারব না। তিনি বলেন, মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের পর তাদের কাছ থেকে ডোনেশন নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজে সে টাকা ব্যয় করা দোষের কিছু না।
যশোরের জেলা প্রশাসক মোঃ নুরুল আমিন জানান, জেলার এমপিগণ প্রশাসনের উপর কোন হস্তক্ষেপ করেন না। তিনি স্বাধীনভাবে প্রশাসন চালাচ্ছেন। তার কাছে কোন এমপি তদবির করতেও আসেন না বলে ডিসি জানান।
পুলিশ সুপার মোঃ কামরুল এহসান জানান, তিনি নতুন এসেছেন। এ পর্যন্ত কোন এমপি প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ করেননি বলে তিনি জানান। এলজিইডি'র নির্বাহী প্রকৌশলী খলিফা মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, তার দফতরে এমপিগণ কোন টেন্ডারবাজির সাথে যুক্ত নন। তিনি স্বাধীনভাবে প্রশাসনিক কাজ করতে পারছেন। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. তরুণ কুমার সিকদার জানান, তার অফিসে লোক নিয়োগের সময় কোন কোন এমপি সুপারিশ করে থাকেন। তিনি বলেন, সুপারিশ করা দোষের কিছু নয়। তবে তাদের উপর চাপ নেই বলে জানান। অবশ্য সম্প্রতি সংঘটিত একটি অপ্রীতিকর ঘটনার কথা তিনি স্বীকার করেছেন।