যশোরের ভবদহ অঞ্চলে মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের মাছের পোনা উন্মুক্ত জলাশয়ে অবমুক্ত না করে চুরি করে খোলা বাজারে বিক্রি ও লুটপাটের প্রতিবাদে মণিরামপুরে বুধবার নাগরিক অধিকার সংরণ ফোরামের উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ও উপজেলা পরিষদ চত্বরে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। উপজেলার ভবদহ অধ্যুষিত হরিদাসকাটি ইউনিয়নের অবহেলিত ও বঞ্চিতরা এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসীর পে সুকৃতি রায় স্বারিত এক স্মারক লিপি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর প্রদান করা হয়। যার অনুলিপি যশোর-৫ মণিরামপুর আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। স্মারক লিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি ভবদহ এলাকায় মৎস্য অবমুক্ত করা হয়েছে। যা এই এলাকার বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। কিন্তু একটি বিশেষ চক্র সুকৌশলে এই এলাকার তাদের ব্যক্তিগত এজেন্ট দিয়ে প্রকল্পের মাছ চুরি করে বিক্রি সহ লুটপাট করিয়েছে। মানববন্ধনকারীরা মাছ চুরি ও লুটপাটের সাথে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
শনিবার স্থানীয় মৎস্য অধিদপ্তর ভবদহ মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে মণিরামপুর উপজেলার হরিদাসকাটি ইউনিয়ণের কুচলিয়া - লেবুগাতী ফসল ও মৎস্য চাষ সমিতির আওতায় ভবদহের বিল বোকড়ে অবমুক্ত করার জন্য ২ হাজার ২শ' ২০ কেজি রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, ওই সমিতির সুচতুর সম্পাদক মাস্টার সুব্রত বিশ্বাস ও তার সহযোগীরা গৃহীত মৎস্য পোনা শনিবার অবমুক্ত না করে স্থানীয় একটি মৎস্য খামারে হাপরে রেখে রবিবার স্থানীয় বিভিন্ন মৎস্য খামার মালিকের কাছে বিক্রি করে। এলাকাবাসী খোলাবাজারে বিক্রিকালে দুই হাড়ি রুই- কাতলার পোনা সহ কুচলিয়া গ্রামের কালাচাঁদ বিশ্বাসের ছেলে পশুপতি বিশ্বাসকে (৩৫) আটক করে পুলিশে দেয়। এ ব্যাপারে সমিতির সভাপতি ভগরতি বিশ্বাস বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় আটক শশুপতি বিশ্বাস ,সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুব্রত বিশ্বাস, সদস্য কৃপা বিশ্বাস ও ভদ্র বিশ্বাসসহ ৪ জনের নামে মামলা করে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিল্লুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে আসামী ও আটক হয়েছে। নতুন করে কোন মামলাদেয়ার বা ব্যবস্থা গ্রহণের কোন অবকাশ নেই।
Latest News
0 comments