পাবনা তাণ্ডবে আসামি ছাত্রলীগ-যুবলীগকর্মীরা আত্মসমর্পণ করবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এক নেতা। একইসঙ্গে সরকার সমর্থক সংগঠন দুটি ঘেরাও করবে ডিসি অফিস।
পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তসলিম হাসান সুমন শনিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, "রোববার তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করবে।"
শনিবার দুপুরে পাবনা পৌর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একটি অংশ উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান তসলিম।
তিনি বলেন, "বিপুল জনসমাগম ঘটিয়ে রোববার ছাত্র ও যুবলীগের অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের আদালতে আত্মসমর্পণ এবং জেলা প্রশাসন (ডিসি) কার্যালয় ঘেরাও করার সিদ্ধান্ত হয় সভায়। জেলা প্রশাসনের মামলার আইনি মোকাবেলার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়।"
গত ১৭ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের অফিস সহকারী পদে নিয়োগ পরীক্ষা ভণ্ডুল করে দেয় সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা। ওই সময় হামলায় আহত হন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর জেলায় এ হামলার জন্য যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের দিয়ে অভিযোগের আঙুল উঠেছে।
পাবনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার আলম এবং এনডিসি মঈনুল হোসেন বাদী হয়ে ওই রাতেই জেলা ছাত্রলীগ-যুবলীগের ৩২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে পৃথক দুইটি মামলা করেন। পুলিশ এ ঘটনায় পাঁচ ছাত্র ও যুবলীগকর্মীকে গ্রেপ্তার করে।
এদিকে ওই ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনের দুই মামলায় ৩২ ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাবনা সদর থানার ওসি বদরুদ্দোজা।
"৩২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হতে পারে," জানিয়ে ওসি বলেন, "ঘটনার সাত কার্যদিবসে অভিযোগপত্র দেয়ার কথা। সোমবার কার্যদিবসের সময় শেষ হবে।"
পৌর আওয়ামী লীগ সহসভাপতি ও স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ খান রতনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন সহসভাপতি শাহজাহান মামুন, মহিউদ্দিন আহমেদ, শহীদুর রহমান, মেহেদী হাসান এপ্রিল প্রমুখ।
শনিবার সন্ধ্যায় পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পিপি অ্যাডভোকেট বেলায়েত আলী বিল�ু ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রকিব হাসান টিপুর নেতৃত্বে শহরে শান্তি মিছিল বের করা হয়। পরে শহরের দোয়েল চত্ত্বরে জেলা যুবলীগ নেতা খালেকুজ্জামান সুইটের সভাপতিত্বে এক প্রতিবাদ সভা হয়।
সভায় বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক যুবলীগ কেন্দ্রীয় নেতা ও পিপি অ্যাডভোকেট বেলায়েত আলী বিল�ু, জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক রকিব হাসান টিপু, সাজ্জাদ খোকন, বিশ্বজিত ঘোষ, ইশবাল কমিশনার, সরকারী শহীদ বুলবুল কলেজের ভিপি মোরশেদ সাবেক ভিপি আব্দুল আজিজ, রনি প্রমুখ।
সভায় অভিযোগ করা হয়, যারা জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা ভণ্ডুল করেছে তারা ছাত্রলীগ-যুবলীগের নাম ভাঙিয়ে দীর্ঘদিন ধরে লুটপাট করে আসছে। দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও এরা নিলর্জ্জের মতো সদর আসনের এমপি গোলাম ফারুক প্রিন্স ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ মোশারোফ হোসেনের সহযোগিতায় একের পর এক অপকর্ম করে চলেছে।
পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শামসুর রহমান শরীফ ডিলু ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য। সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু সাঁিথয়া-বেড়া আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স সদর আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য।
শামসুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "যারা অঘটন ঘটিয়েছে তারা দুষ্কৃতকারী। আওয়ামী লীগের কেউ মিছিল সমাবেশ করছে না। যারা করছে তারা ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিবাদ করছে।"
Latest News
0 comments