উৎকণ্ঠা কাটিয়ে ১৫ লাখ শিশু আর অভিভাবকদের উৎসাহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হলো অষ্টম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা। পরীৰায় সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পরীৰার নাম জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) আর মাদ্রাসা বোর্ডের পরীৰার নাম জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীৰা। পরীৰায় রেজিট্রেশন করেও হলে অনুপস্থিত ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৪৭২ জন। ১ শিৰকসহ বহিষ্কৃত হয়েছে ৩৬ জন। প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এই পরীৰায় উৎসাহের কমতি ছিল না। কেন্দ্রজুড়ে ছিল মায়েদের ভিড়। পরীৰা শেষে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিব্যক্তি ছিল, 'প্রশ্ন অনেক সহজ হয়েছে। পরীৰা ভাল হয়েছে। তবে একদিনে দুটি করে পরীৰা হওয়ায় তারা ৰুব্ধ। কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে ৰোভের সঙ্গে বললেন, একদিনে দুটি পরীক্ষা কেন?
রাজধানীর শিশু আর অভিভাবকরা জানালেন, সকালের জানযট আর জানবাহন সঙ্কটের প্রবল সমস্যার কথা। তবে শনত্মিপূর্ণভাবে পরীৰার শুরম্নতে খুশি শিৰামন্ত্রী এবং শিৰামন্ত্রণালয় ও শিৰা অধিদফতসহ সংশিস্নষ্ট প্রতিষ্ঠানের সকল শিৰক-কর্মকর্তা। ব্যাপক প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় শুরু হয়েছে অষ্টম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা বা জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীৰা। একই সঙ্গে শুরু হচ্ছে জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীৰা। ৮টি সাধারণ ও একটি মাদ্রাসা শিৰা বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৮০৪টি কেন্দ্রে পরীৰার্থী ছিল ১৫ লাখ ৫ হাজার ৩৯১ পরীৰার্থী। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের সংখ্যা প্রায় এক লাখ বেশি। ৮টি সাধারণ শিৰাবোর্ডের পরীৰার্থী ১২ লাখ ৩৩ হাজার ৩৯১ জন এবং মাদ্রাসা বোর্ডে ২ লাখ ৭২ হাজার। সাধারণ বোর্ডে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যনত্ম অনুষ্ঠিত হয় বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র পরীৰা। তিন ঘণ্টাব্যাপী পরীৰার পর এক ঘণ্টা বিরতি শেষে দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হয় বাংলা (আবশ্যিক) দ্বিতীয় পত্র পরীৰা। মাদ্রাসা বোর্ডের ছিল একটি পরীৰা। এ বোর্ডের বাংলা সাহিত্য পরীৰা অনুষ্ঠিত হয়েছে সকাল ১০ টা থেকে ১ টা পর্যনত্ম। পরীৰা শেষে রাতে শিৰা মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রম্নল থেকে জানা গেছে, পরীৰায় অনুপস্থিত ছিল ১ লাখ। পরীৰায় ৮টি সাধারণ শিৰা বোর্ডের জেএসসি পরীৰায় ১৮ হাজার ১৮৬টি প্রতিষ্ঠানের ১২ লাখ ৩৩ হাজার ৩৯১ পরীৰার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৪৭২জন। ঢাকা শিৰা বোর্ডে ৩ লাখ ৭৬ হাজার ২৩৪ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ২১ হাজার ৩৫৩ জন, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৮৯ জন অনুপস্থিত ছিল ১২ হাজার ৮০ জন, কুমিলস্না বোর্ডে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪৮ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ৮ হাজার ৩৯৮ জন, এই বোর্ডে বহিষ্কৃত হয়েছে ২১ জন। যশোর বোর্ডে ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৯৫ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ১২ হাজার ৬৩৯ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ১ লাখ ৫ হাজার ১৬০ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ৩ হাজার ৯০৩ জন, এই বোর্ডে ১ শিৰক বহিষ্কৃত হয়েছেন। বরিশাল বোর্ডে ৭৫ হাজার ৭১০ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ৫ হাজার ৫৭১ জন, সিলেট বোর্ডে ৬৯ হাজার ৬২১ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ২ হাজার ৭২৫ জন এবং দিনাজপুর বোর্ডে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৩৪ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ৩৮৪৯ জন। অন্যদিকে মাদ্রাসা বোর্ডের জেডিসি পরীৰায় ২ লাখ ৭২ হাজারের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ৩০ হাজার ৯৫৪ জন । এ বোর্ডে বহিষ্কৃত হয়েছে ১৪ জন। শিক্ষামন্ত্রী নুরম্নল ইসলাম নাহিদ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মতিঝিল সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়, মতিঝিল সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ই আলীয়া পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় শিক্ষাসচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, যুগ্মসচিব খন্দকার রাকিবুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নোমান উর রশিদ, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফাহিমা খাতুনসহ সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ছিলেন। বিকেলে শিৰামন্ত্রী সিলেটের বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। রাজধানীরতে কেন্দ্র পরিদর্শনকালে শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষার সময়সূচী নিয়ে অভিভাবকদের কিছুটা ৰোভের মুখে পড়েন। কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে শিৰামন্ত্রীর কাছে অভিভাবকরা ৰোভের সঙ্গে বলেন, একদিনে দুটি পরীৰা কেন নিলেন?
শিৰামন্ত্রী বলেন, প্রতি পরীক্ষার মাঝে বিরতির সময় না কমালে, শিক্ষার্থীরা ক্লাস কম পাবে। সব দিক লক্ষ্য করে সংশিস্নষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ সময়সূচী নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের কোন ক্ষতি হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। মন্ত্রী বলেন, এ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শিক্ষার মান বাড়বে। শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া কমে যাবে এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে। পরীৰাকে কেন্দ্র করে শিশুদের উৎসাহের কথা উলেস্নখ করে শিৰামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে কোন প্রকার অসন্তুষ্টি নেই। হলে তারা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন পরীৰা কেন্দ্রে শিৰার্থী অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল বিকালে দুটি পরীৰা নিয়ে কিছুটা ৰোভ থাকলেও প্রথম দিনের পরীৰা দিয়ে পরীৰার ভয় ও উৎকণ্ঠা অনেক কেটে গেছে। রাজধানী থেকে শুরম্ন করে গ্রাম পর্যনত্ম স্কুলকে কেন্দ্র করে ছিল একই আমেজ। দুপুরে গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলে গিয়ে দেখা গেল অভিভাবকরা বসে আছেন সনত্মানের পরীৰার উৎকণ্ঠা নিয়ে। পরীৰা কেমন হয়েছে? প্রশ্ন করতেই অভিভাবকরা বললেন, খুব ভাল হয়েছে। কোন সমস্যা হয়নি। তবে বাংলা ও ইংরেজীর চারটি পরীৰা চার দিনে নিলে আরও ভাল হতো। মতিঝিল সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়, ধানমণ্ডি সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়, তেজগাঁও সরকারী বালিকা বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পরীৰা কেন্দ্রে গেলেও শিৰার্থী অভিভাবকদের একই অভিব্যক্তি পাওয়া গেল। সময়সূচী নিয়ে কিছুটা অসন্তুষ্টি থাকলেও সহজ প্রশ্ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীৰা আয়োজনে খুশি সকলেই। সারাদেশে জনকণ্ঠের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, পরীৰা শানত্মিপূর্ণ পরিবেশেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে প্রতিটি কেন্দ্রেই অনেক শিৰাথর্ী অনুপস্থিত ছিল।
আজ শুক্রবার এবং আগামীকাল শনিবার সাধারণ বোর্ডে কোন পরীৰা নেই। রবিবার সাধারণ বোর্ডের অধীনে সকালে ইংরেজী (আবশ্যিক)-প্রথম পত্র, বিকালে ইংরেজী (আবশ্যিক) দ্বিতীয় পত্র পরীৰা অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে আগামীকাল শনিবার মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে ইংরেজী পরীৰা অনুষ্ঠিত হবে।
Latest News
0 comments