Latest News

যশোর ভাইয়া গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে এমপিরা কোণঠাসা

যশোর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনই আওয়ামী লীগের। এদের মধ্যে ৩ জনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। অপর তিন এমপির বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না থাকলেও এলাকায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দাপট নিয়ন্ত্রণ করতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। জেলায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে কোন্দল চরম আকার ধারণ করছে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ সমন্বয়ে গঠিত 'ভাইয়া গ্রুপ' একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করছে। জেলা থেকে উপজেলা পর্যন্ত সকল প্রশাসনে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য, টিআর, কাবিখা ও কাবিটা এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হওয়ায় দলীয় নেতাকমর্ী এবং এক উপজেলার চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ভাইয়া গ্রুপ ভাগাভাগি করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সমগ্র যশোর জেলায় বিএনপি'র এক এমপির কথার বাইরে প্রশাসনে কাজ হতো না। তাকে ভাগ দিয়ে দলীয় ক্যাডাররা টেন্ডার, দখল, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য, টিআর, কাবিখা ও কাবিটা নিয়ন্ত্রণ করতো বলে জানা যায়। বর্তমানেও সেই চিত্রের পরিবর্তন হয়নি।

জানা যায়, যশোরে আওয়ামী লীগে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সূত্রপাত ২০০৫ সালে। এ দ্বন্দ্ব কখনো অগি্নস্ফুলিঙ্গের মত ছড়িয়েছে আবার কখনো ছাইচাপা আগুনের মত সুপ্ত থেকেছে, কিন্তু নিভেনি। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এ পর্যন্ত ৭ জন দলীয় কমর্ী খুন হয়েছে। তারপরও দলের মধ্যে হিংসার রাজনীতি থামছে না। গত ১৩ মার্চ ৭ বছর পর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন শেষে কমিটি গঠনকালে ভোট গ্রহণের সময় সহিংস ঘটনা ঘটে। প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয় ছাত্রলীগ নেতা রিপন হোসেন। দলের আভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিভিন্ন সময় অকালে যে সকল নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন তারা হচ্ছেন মকিমবাবু, বিপস্নব, শহীদ, বাবু, রবি ও ডাকু।

এলাকার এক এমপি নিজ নির্বাচনী এলাকায় একটি জুট মিল স্থাপন করেছেন। সেখানে এলাকার এক হাজার মহিলার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে প্রশংসা পেয়েছেন। চোরাচালান দমনে তিনি ভূমিকা রাখছেন বলে জানা যায়। তবে এখানেও দলে কোন্দল রয়েছে। ফলে মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের সবসময় নিয়ন্ত্রণ করা এমপির পক্ষে সম্ভব হয় না বলে জানা যায়।

আরেক এমপি মাসের অধিকাংশ সময় ঢাকায় থাকেন। তার অনুপস্থিতিতে এক উপজেলা চেয়ারম্যান এলাকায় দাপট দেখান। থানা ও প্রশাসন তার নির্দেশমত চলে। দলীয় নেতাকর্মীরাও দাপট দেখায়। এমনকি থানাতে হয়রানিমূলক মামলাও দায়ের করা হয়। এমপি মাঝে মধ্যে আসেন এবং রুটিন ওয়ার্ক সেরে ঢাকায় ফিরে যান।

আরেক এমপির সাথে দলের জেলা সাধারণ সম্পাদকের দা-কুমড়া সম্পর্কের কথা জেলায় ওপেন সিক্রেট। এ ডাকসাইটে এমপি সিভিল সার্জন অফিসে লোক নিয়োগকালে সুইপার পদে হরিজন সমপ্রদায়ের কয়েকজনকে নিয়োগদানের সুপারিশ করেছিলেন। তাদের চাকরি না হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। দলীয় কয়েকজন নেতা সিভিল সার্জন অফিসে গিয়ে তান্ডব শুরু করেন। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অপর এক এমপির সাথে তার নির্বাচনী এলাকার এক প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পর্ক ক্রমেই সংঘাতময় হয়ে উঠছে। সেখানকার রাজনীতি এখন উত্তপ্ত। দুই গ্রুপের মধ্যে কয়েকটি ছোটখাট সংঘর্ষও হয়েছে।

মহাজোট নতুন করে ক্ষমতায় আসার পর এ নির্বাচনী এলাকায় তেমন উন্নয়ন হয়নি। টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রভৃতি উন্নয়ন প্রকল্পের কমিটির চেয়ারম্যান হচ্ছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বরাদ্দকৃত চাল গম হরিলুট হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায় । এখানে ভাইয়া গ্রুপের দাপটে এমপি গ্রুপ কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। অপর এক এমপির বাড়ি করা নিয়ে নানা কানাঘুষা শোনা যায়। যশোরের আরেক এমপিও মাসের অধিকাংশ সময় এলাকায় থাকেন না। তার অনুপস্থিতিতে দলীয় নেতাকর্মীরা প্রশাসনের উপর দাপট দেখায়। স্কুল-কলেজের পরিচালনা কমিটির পদগুলোতে দলীয় লোক বসানো হয়েছে। তারা নিয়োগ বাণিজ্য করছে বলে অভিযোগ উঠছে। কিন্তু এসবের প্রতি এমপি নজর দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও টিআর, কাবিখা প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে না হওয়ার অভিযোগ তো রয়েছেই।

অভিযোগ প্রসঙ্গে একজন এমপি বলেন, তার এলাকায় স্কুল-কলেজগুলোতে নির্বাচিত পরিচালনা কমিটি রয়েছে। তারা কে কি করছেন তা বলতে পারব না। তিনি বলেন, মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের পর তাদের কাছ থেকে ডোনেশন নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজে সে টাকা ব্যয় করা দোষের কিছু না।

যশোরের জেলা প্রশাসক মোঃ নুরুল আমিন জানান, জেলার এমপিগণ প্রশাসনের উপর কোন হস্তক্ষেপ করেন না। তিনি স্বাধীনভাবে প্রশাসন চালাচ্ছেন। তার কাছে কোন এমপি তদবির করতেও আসেন না বলে ডিসি জানান।

পুলিশ সুপার মোঃ কামরুল এহসান জানান, তিনি নতুন এসেছেন। এ পর্যন্ত কোন এমপি প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ করেননি বলে তিনি জানান। এলজিইডি'র নির্বাহী প্রকৌশলী খলিফা মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, তার দফতরে এমপিগণ কোন টেন্ডারবাজির সাথে যুক্ত নন। তিনি স্বাধীনভাবে প্রশাসনিক কাজ করতে পারছেন। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. তরুণ কুমার সিকদার জানান, তার অফিসে লোক নিয়োগের সময় কোন কোন এমপি সুপারিশ করে থাকেন। তিনি বলেন, সুপারিশ করা দোষের কিছু নয়। তবে তাদের উপর চাপ নেই বলে জানান। অবশ্য সম্প্রতি সংঘটিত একটি অপ্রীতিকর ঘটনার কথা তিনি স্বীকার করেছেন।
Tags:

About author

Curabitur at est vel odio aliquam fermentum in vel tortor. Aliquam eget laoreet metus. Quisque auctor dolor fermentum nisi imperdiet vel placerat purus convallis.

0 comments

Leave a Reply